Breaking News
Home / শিশুদের দাঁত এর যত্ন

শিশুদের দাঁত এর যত্ন

ছেলে বেলা থেকেই দাঁত ও মাড়ির যথাযত যত্ন একান্ত জরুরী। এখানে সে বিষয়ে কিছু দরকারি তথ্য নিয়েই আমার এই লেখা।

মা-বাবার দাঁত ও মাড়ির যত্ন

মা-বাবা দাঁতের যথাযথ যত্ন না নিলে তাদের মাধ্যমে শিশুর দাঁতে সংক্রমণ হতে পারে। তাদের দাঁত ও মাড়িতে জমে থাকা ব্যাকটেরিয়ায় শিশুর দাঁতও আক্রান্ত হতে পারে। তাই বাবা-মা দু’জনেরই বিজ্ঞানসম্মত পরামর্শ মেনে চলা উচিত্।

++সিগারেট বা নিকোটিনযুক্ত যে কোন নেশার কাছ থেকে দুরে থাকতে হবে। সিগারেট ছেড়ে দিতে পারলে ভালই হয়।

++বাবা-মা দ’জনেরই বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি মেনে দাঁত ব্রাশ করা উচিত্। যদি সঠিক পদ্ধতি জানা না থাকে, তা হলে বিশেষজ্ঞের কাছ থেকে ভাল করে বুঝে নিতে হবে।

++প্রেগনেন্ট মায়েদের যদি দাঁতে ব্যথা হয় তা হলে ডাক্তারের পরামর্শ না নিয়ে পেইন কিলার ট্যাবলেট খাওয়া খুবই ক্ষতিকারক। এতে শিশুর মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে।

++বাচ্চার মুখে মুখ লাগিয়ে আদর করা উচিত্ নয়। এতে বড়দের মুখের ব্যাকটেরিয়া টক্সিন শিশুর মুখে চলে যেতে পারে। এতে করে শিশু সহজেই আক্রান্ত হতে পারে।

নবজাতকের দাঁত ও মাড়ির যত্ন

++শিশু জন্মানোর পর থেকেই শুরু হয়ে যাওয়া উচিত্ তার মাড়ির যত্ন। স্টেরিলাইজ করা গজ বা কাপড় হাতে জড়িয়ে খুব সাবধানে শিশুর মাড়ি পরিস্কার করা উচিত্।

++এই সময়ে বাচ্চার মুখে যদি কোন দুর্গন্ধ হয় তবে বুঝতে হবে যে মাড়িতে কোন সংক্রমণ ঘটেছে।

++শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় খেয়াল রাখবেন স্তন এবং হাত পরিস্কার আছে কি না।

++জন্মানোর পর থেকে বুকের দুধ না ছাড়া পর্যন্ত বিশেষ সর্তকতা অবলম্বন করা উচিত্। যদিও দুধে অ্যান্টিবডি থাকে, তা হলেও দুধের স্ত শুকিয়ে শিশুর মাড়িতে ফাংগাল ইনফেকশান সৃষ্টি করে। তাই গজ বা কাপড় দিয়ে নিয়মিত পরিসড়ার করা উচিত্।

শৈশব এবং বয়ঃসন্ধির সময়ে দাঁত ও মাড়ির যত্ন

++শিশু কথা বলতে শুরু করলে ওরাল ক্রিম দিয়ে শিশুর মাড়ি মাসাজ করা উচিত্। ডাক্তারের প্রেশক্রিপশন অনুযায়ী মাসাজ ক্রিম ব্যবহার করতে হবে।

++বাচ্চার দুধের দাত উঠলে সব কিছুতেই কামড়ানোর চেষ্টা করে। তাই সংক্রমণের বেশি ভয় থাকে। এই সময় সফট বা ডিজিটাল ব্রাশ দিয়ে ধীরে ধীরে ব্রাশ করানো উচিত্।

++ছোট থেকেই শিশুকে নিয়ম করে সকালে ঘুম থেকে উঠার পর এবং রাত্রে শুতে যাওয়ার আগে দাঁত ব্রাশ করা সেখানো উচিত্।

++প্রতিদিন মাউথ ওয়াস এবং ফ্লসিং করা ছোট বেলা থেকেই সেখানো উচিত্।

++যে সমস্ত শিশুরা একটু বড় বয়স পর্যন্ত মায়ের দুধ খায় তাদের দাঁতে ক্যারিজ হতে পারে। এই সমস্ত দাঁত তুলে না ফেলে সঠিক চিকিত্সা করে রেখে দেয়ার চেষ্টা করতে হবে। কারণ তুলে ফেললে পরের বার দাঁত উঠতে অসুবিধা হয়।

++চকলেট অথবা কার্বহাইড্রেট খাবার খেয়ে মুখ ধুয়ে ফেলা উচিত্, তা না হলে ক্যারিজ হতে পারে।

++আমাদের মুখের লালা বা স্যালাইভাতে এমন কিছু আছে যা আমাদের শরীরে দূষিত জিনিস প্রবেশে বাধা দেয়। বয়স বাড়ার সাথে সাথে এর তারতম্য ঘটে এতে সংক্রমণ ঘটতে পারে। তাই সচেতন হতে হবে।

++উচু আকাবাকা দাঁত সোজা করার জন্য যারা ব্রেস বা তারের বাধন ব্যবহার করেন তারা নির্দিষ্ট অসুধের সাহায্যে ব্রেস পরিষ্কার করবেন।

++অনেক সময়ে দাঁতের ফাঁকে মাড়ির কোনে দুধের পরত বা খাবার জমে থাকে। যার ফলে দাঁত ও মাড়ির রোগ দেখা দিতে পারে।

++বয়ঃসন্ধির সময়ে আক্কেল দাঁত ওঠা নিয়ে যন্ত্রণার কবলে পড়তে হয় অনেক ছেলে-মেয়েকে। যন্ত্রণাহীনভাবে আক্কেল দাঁত বাড়তে দেওয়ার সুচিকিত্সাও সহজেই বর্তমানে পাওয়া যায়।